২০২৪ সালের অক্টোবরে বেস মেইননেটে ফল্ট প্রুফস চালু হয়েছে, যা এই প্ল্যাটফর্মের বিকেন্দ্রীকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বেস-এর দল বিশ্বাস করে যে, একটি উন্মুক্ত এবং বিশ্বব্যাপী অনচেইন অর্থনীতি শুধুমাত্র একটি বিকেন্দ্রীভূত প্ল্যাটফর্মের উপরই গড়ে উঠতে পারে। এই কারণে তারা ইথেরিয়ামের সঙ্গে যুক্ত থেকে এবং অপটিমিজমের ওপি স্ট্যাক ব্যবহার করে এগিয়ে চলেছে।

ফল্ট প্রুফস কী? এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা বেস-এর অবস্থা (state) যাচাই করতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে যে কেউ বেস-এর চেইনের অবস্থা সম্পর্কে দাবি করতে পারে এবং ভুল বা জালিয়াতি দাবি চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এই প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্প্রদায়ের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ বেস থেকে ইথেরিয়ামে ইথার (ETH) তুলে নেওয়ার জন্য ভুল দাবি করে, তবে যে কেউ ৩.৫ দিনের মধ্যে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারে এবং সফল হলে পুরস্কার পাবে।
বাংলাদেশের জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? আমাদের দেশে ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টো সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ছে, কিন্তু নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। ফল্ট প্রুফস-এর মতো প্রযুক্তি আমাদের ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নিরাপদ এবং স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, বেস-এর পরবর্তী লক্ষ্য হলো স্টেজ ১ বিকেন্দ্রীকরণ অর্জন করা, যেখানে একটি “সিকিউরিটি কাউন্সিল” প্রোটোকল আপগ্রেড পরিচালনা করবে। এটি বাংলাদেশের ডেভেলপারদের জন্যও একটি সুযোগ—তারা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদান রাখতে পারেন।
২০২৫ সালে বেস স্টেজ ২-এর দিকে এগোবে, যেখানে তারা একাধিক ফল্ট প্রুফ বাস্তবায়নের উপর কাজ করবে। এই যাত্রা বাংলাদেশের ক্রিপ্টো সম্প্রদায়ের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হতে পারে, যেখানে আমরা শিখতে পারি কীভাবে প্রযুক্তি এবং সম্প্রদায় একসঙ্গে কাজ করে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে।
